মধুখালীতে সাংবাদিকদের ওপর হামলা দাহমাসি জুট ইন্ডাস্ট্রিজ লিঃ কর্তৃপক্ষের ভুল স্বীকার করে দুঃখ প্রকাশ ও ক্ষমা প্রার্থনা
শাহজাহান হেলাল ফরিদপুর জেলা প্রতিনিধি ১৫ এপ্রিল বৃহস্পতিবার: ফরিদপুরের মধুখালীতে আবস্থিত দাহমাসি জুট ইন্ডাস্ট্রিজ লিঃ মালিক পক্ষ বিনা নোটিশে মিল বন্ধ করে দেওয়ায় শ্রমিক অসন্তোষ এর সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে মালিকের নির্দেশে সংবাদিকদের ওপর সন্ত্রাসীদের হামলা ক্যামেরা ভাংচুর এবং মিলের অফিসে অবরুদ্ধকরে শারীরিক লাঞ্চিত করার অভিযোগ উঠে । এ সময় ৯৯৯ ও মধুখালী উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে জানালে পুলিশ এবং স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ওই দুই সাংবাদিককে উদ্ধার করেন।
কর্তব্যরত সাংবাদিকদের ওপর হামলার জেরে উপ্তপ্ত হয়ে উঠে মধুখালীর পরিবেশ। দাহমাসি জুট ইন্ডাস্ট্রিজ লিঃ মালিক পক্ষ নিজেদের ভুল বুঝতে পেরে এবং সাংবাদিকদের ওপর হামলার ভুল স্বীকার করে মধুখালীপ্রেসক্লাবের সভাপতি মোঃ রেজাউল হক বকু এবং বিভিন্ন মাধ্যমের সাথে যোগাযোগ করেন।
দাহমাসি জুট ইন্ডাস্ট্রিজ লিঃ মালিক পক্ষের যোগাযোগের পরিপ্রেক্ষিতে মধুখালী প্রেসক্লাবের সভাপতি মোঃ রেজাউল হক বকুর নেতৃত্বে সাংবাদিকদের একটি প্রতিনিধি দল মঙ্গলবার দুপুরে দাহমাসি জুট ইন্ডাস্ট্রিজ লিঃ এর অফিস কক্ষে মালিক পক্ষের সাথে আলোচনায় বসেন। দীর্ঘ আলোচনায় দাহমাসি জুট ইন্ডাস্ট্রিজ লিঃ এর কর্তৃপক্ষ তাদের ভুল স্বীকার করে ক্ষমা প্রার্থনা করেন। যার প্রেক্ষিতে সাংবাদিকদের জমে থাকা ক্ষোভ উত্তেজনার অবসান ঘটে। সাংবাদিক প্রতিনিধি দলে ছিলেন নির্বাহী সদস্য মোঃ নজরুল ইসলাম, উপজেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ম সাধারন সম্পাদক মোঃ ইলিয়াছ মিয়া, এ্যাড.আলীউজ্জামান খোকন, মধুখালী প্রেসক্লাবের যুগ্ম সাধারন সম্পাদক শাহজাহান হেলাল, মতিয়ার রহমান মিয়া, মেহেদী হাসান পলাশ, সালেহীন সোয়াদ সাম্মী, মফিজুর রহমান মুবিন, মোহাম্মাদ রমজান আলী বিশ্বাস,মোঃ সজিব মোল্যা ও রিফাত বিশ্বাস।
দাহমাসি জুট ইন্ডাস্ট্রিজ লিঃ এর কর্তৃপক্ষ হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ডাক্টার মির্জা খায়রুল কামাল,মোঃ আমাম হোসেন মিলু,মহাব্যবস্থাপক মোঃ রফিকুল ইসলাম এবং কামাল হোসেন ।
সংশ্লিষ্ট এলাকার আড়পাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ জাকির হোসেন উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ মধুখালী উপজেলার আড়পাড়া ইউনিয়নের ঢাকা-খুলনা মহাসড়ক সংলগ্ন গড়াই সেতুর আগে রাজধরপুর গ্রামে অবস্থিত দাহমাসি জুট ইন্ডাস্ট্রিজ লিঃ মালিক কর্তৃপক্ষ ৮ এপ্রিল বৃহস্পতিবার বিনা নোটিশে মিলটি বন্ধ ঘোষণা করেন। ফলে স্থানীয় পাট ব্যবসায়ীদের পাওনা দাবীতে এবং জুট মিল এলাকায় শ্রমিক অসন্তোষের খবর পেয়ে সংবাদ সংগ্রহে চ্যানেল এস টেলিশিভনের মো. মফিজুর রহমান মুবিন, জয়যাত্রা টেলিশিভনের মেহেদী হাসান পলাশ ও দৈনিক ঢাকা প্রতিদিনের সালেহীন সোয়াদ সাম্মী মধুখালী প্রতিনিধিগণ শুক্রবার বিকেলে সংবাদ সংগ্রহে গেলে জুটমিলের প্রধান ফটকে কর্তব্যরত নিরাপত্তা কর্মীরা তাদের সাথে অসৌজন্যমূল আচরণ করেন। মিল কর্তৃপক্ষের লালিত সন্ত্রাসী বাহিনী ছবদাল কবির, শামীম আহমেদ, রফিকুল ইসলাম, সুজাউল আলম, মো. কামাল, নিয়াজউদ্দিন, আব্দুর রহমান রবিউল এর নেতৃত্বে আরো ১০/১২জন সংবাদিকদের মিল অভ্যান্তরিন একটি কক্ষে অবরুদ্ধ করে শারীরিক লাঞ্চিত ও আহত করে এবং ক্যামেরা ভাংচুর ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নিয়ে যায়।
এ সময় ৯৯৯ এবং মধুখালী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোস্তফা মনোয়ারকে জানালে পুলিশ এবং স্থানীয় আড়পাড়া ইউনিয়ন চেয়ারম্যান মো. জাকির হোসেন ওই দুই সাংবাদিককে উদ্ধার করেন। এ ব্যাপারে লাঞ্চিত জয়যাত্রা টেলিভিশনের প্রতিনিধি মেহেদী হাসান পলাশ মধুখালী থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছিলেন।
No comments:
Post a Comment