ঝিনাইদহে জিকে সেচ খালে পানি নেই, বৃষ্টি না হওয়ায় ব্যাহত হচ্ছে পাট-আউশ আবাদ
বসির আহাম্মেদ, ঝিনাইদহ প্রতিনিধি-ঝিনাইদহে পানি সরবরাহ করা হয়নি কুষ্টিয়ার গঙ্গা-কপোতাক্ষ সেচ প্রকল্পের খালে। বৃষ্টি না হওয়া আর পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন ঝিনাইদহের শৈলকুপা, হরিণাকুন্ডু ও সদর উপজেলার কৃষকেরা।
জানা যায়, গঙ্গা-কপোতাক্ষ (জিকে) সেচ প্রকল্পের আওতায় রয়েছে ঝিনাইদহের ৩ টি উপজেলা। এই সেচ প্রকল্পের আওতায় জেলার ৩ উপজেলার প্রায় ২৯ হাজার হেক্টর আবাদী জমি রয়েছে। চলতি মৌসুমে ঝিনাইদহের এই জিকে সেচ প্রকল্পের পানি সরবরাহ না করায় ব্যাহত হচ্ছে পাট ও আউশ ধানের আবাদ। গত মাসের শুরুর দিকে কিছুটা পানি সরবরার করা হলেও তা ছিল না পর্যাপ্ত। বোরো ধানের জন্য পানি প্রয়োজন হলেও প্রকল্প কর্তপক্ষ পানি সরবরাহ করতে পারেনি। পানি না থাকায় আবাদ করা যাচ্ছে না পাট ও আউশ ধানের আবাদ।
ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলার উত্তর মির্জাপুর গ্রামের কৃষক বাবু শেখ বলেন, একুন পিয়াজ, রসুন মাট থেকে উটে গেচে। একুন পাট আর ধান লাগাতি হবি। কিন্তু ক্যানালে পানি দেচ্ছে না। পাট যদি একুন না বুনি তাহলি বরে বনবো। ক্যানালে পানি আরও আগে আসা দরকার ছিলো। সেচ দিয়ে পান আর ধান বুনতি গেলে তো মেলা খরচ।
একই গ্রামের কৃষক রুহুল শেখ বলেন, এতোদিন যদি খালে পানি দিয়ে দিতো তাহলি পান আগেই বুনতি পারতাম। ধানের চারা দিতি পারতাম। পানি নেই তো কি দিয়ে চাষ করবো। বৃস্টিও হচ্চে না যে বৃস্টির পানি দিয়ে চাষ করবো। খুব বিপদে আচি।
খন্দকবাড়ীয়া গ্রামের কৃষক কাশেম আলী বলেন, ক্যানালে পানি নেই। ওদিক বৃস্টিও হচ্ছে না। আবার বোরিং দিয়ে যে পানি তুলে চাষ করবো তাতেও পানি ওটছে না। খুব কষ্টে আচি। পানি লিয়ার নিচে নেমে গেছে। পানিও উটছে না। কিভাবে চাষ করবো। এখন ক্যানালে যদি পানি দিতো তাহলি এই সমস্যার সমাধান হতো।
ঝিনাইদহ জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক আজগর আলী বলেন, জিকে সেচ প্রকল্পের পানি কৃষকের চাষের জন্য খুবই উপকারি। এতে কৃষকের উৎপাদন খরচও কমবে। আর এখন যদি পানি সরবরাহ না করা হয় তবে পাট ও আউশ ধানের আবাদ পিছিয়ে যাবে। এজন্য দ্রুত সেচ প্রকল্পের সব এলাকায় পানি সরবরাহ করা উচিত।
এ ব্যাপারে ঝিনাইদহ পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-প্রধান সম্প্রসারণ কর্মকর্তা আব্দুল মোত্তালেব বলেন, পদ্মা নদীতে পানি না থাকার কারণে বোরো ধানের আবাদে পানি সরবরাহ বিঘ্নিত হয়েছিল। এখন পানি সরবরাহ করা হচ্ছে। বোরো ধানের পানি এখন সরবরাহ করা হবে। আর আউশ আবাদের পানি সরবরাহ করা হবে এ মাসের শেষ বা আগামী মাসের প্রথম সপ্তাহে। এছাড়াও কৃষকদের চাহিদা অনুযায়ী স্থানভেদে পানি সরবরাহ করা হচ্ছে।

No comments:
Post a Comment